যখন কোনো বিবাহিত মেয়ে মরে যায়, কিংবা নিজের জীবনের ইতি টানে—
যখন কোনো বিবাহিত মেয়ে মরে যায়, কিংবা নিজের জীবনের ইতি টানে—
তখন বাবা-মায়ের বুক ফেটে যায়।
তারা কাঁদতে কাঁদতে বলেন,
“কি কষ্ট ছিল মেয়ের মনে, একটুও তো বলল না…”
কিন্তু আসলেই কি সে বলেনি?
আপনার তাই মনে হয়?
না, সে বলেছিল। বারবার বলেছিল। হাজার বার বলেছিল।
শুধু কেউ শোনেনি। শুনেও বুঝতে চায়নি। যখন সে কেঁদে কেঁদে বলেছে, “আমি ক্লান্ত, আমি একা, আমি ভালো নেই”— তখন উত্তর এসেছে, “চাকরি ছেড়ে দাও।” “ব্যবসা বন্ধ করো।”“সংসারে মন দাও।”
“আরেকটা বাচ্চা নাও, সব ঠিক হয়ে যাবে।”
কিন্তু কেউ কি কখনো সেই মেয়ের স্বামীর মা-বাবাকে বলতে শুনেছেন—
“বাবা, তুই সংসারে মন দে।”
“বাবা, প্রতিদিন সন্ধ্যায় বন্ধুদের আড্ডা বাদ দিয়ে বউকে একটু সময় দে।”
“বাবা, জিমে যাওয়া বন্ধ করে ওর পাশে থাক।”
“বাবা, অফিস থেকে ফেরার পথে ওর দরকারি জিনিসগুলো নিয়ে আয়।”
“বাবা, মাঝে মাঝে ওকে ঘুরতে নিয়ে যাস।”
“বাবা, ওকে এত কষ্ট দিস না।”
না, এমন কথা আমরা শুনি না।
কারণ, পুরুষদের কম্প্রোমাইজ করতে হয় না।
তাদের শেখানো হয় না “সংসার করা” মানে দুজনের সমান দায়িত্ব।
তাদের শেখানো হয়, সংসার মানে নারী করবে —
সব স্যাক্রিফাইস, সব ধৈর্য, সব বোঝাপড়া তারই দায়িত্ব।
একজন নারী তার শরীর, মন, আত্মা দিয়ে সংসারটাকে বাঁচিয়ে রাখে।
সন্তান ধারণের সময় জীবন বাজি রাখে,
প্রতিদিন নিজেকে একটু একটু করে পুড়িয়ে দেয় —
শুধু এই আশায়, একদিন সবাই বুঝবে, একদিন শান্তি পাবে।
কিন্তু যখন কোথাও আশ্রয় পায় না,
যখন সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়,
যখন কান্নার শব্দও কেউ আর শুনতে চায় না —
তখন সে কুইট করে।
কেউ আগুন ঢেলে দেয় গায়ে, কেউ ছাদ থেকে লাফ দেয়,
কেউ নিঃশব্দে ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে যায় চিরদিনের মতো।
পিছনে রেখে যায় ছোট্ট একটা নোট —
“I quit.”
কেউ জানে না, কতটা অসহায় আর একা বোধ করলে একজন মানুষ এমন সিদ্ধান্ত নেয়।
এটা কোনো আত্মহত্যা নয়।
এটা খু*ন।
নিঃশব্দ, পরিকল্পিত, সমাজের অনুমোদিত মা/র্ডা/র।
আর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয়—
এই খু/নের কোনো শাস্তি নেই।
না আইনে, না বিবেকে, না সমাজে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন